নিরপরাধের চোখের পানি বনাম বিচারকের মৌসুমী ছুটি:
আসিয়া পায়নি বিচার, রামিসা কি পাবে?
– বাংলাদেশের বিচার বিভাগের সংস্কার এখনই জরুরি।
বাংলাদেশের লোকেরা বিচার পায় না। এদেশে বিচার নাই। এদেশে খুনিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ায়। এরকম কথা কি আপনি জীবনে কখনো শুনেছেন? আপনি না শুনলেও আমি অনেকবার শুনেছি।
প্রতি বছর সুপ্রিম কোর্টের গ্রীষ্মকালীন ছুটিতে বিচারপতিরা যখন পরিবার নিয়ে কক্সবাজার কিংবা পাহাড়ি রিসোর্টে সময় কাটান, ঠিক সেই মুহূর্তে দেশের বিভিন্ন জেলখানায় কয়েক হাজার নিরপরাধ মানুষ দিনের পর দিন জেল খাটছেন। তাঁদের পরিবারের মা-বোনেরা চোখের জল ফেলছেন—জানি না কবে তাঁদের স্বজন বিচার পেয়ে মুক্তি পাবেন। এটা শুধু হৃদয়ের ক্রন্দন না, পেটের ক্ষুধাও জড়িত।
এদের অনেকেই পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। যার অভাবে পরিবারটা হয়তো খেয়ে- না- খেয়ে অতি কষ্টে মানবেতর জীবন যাপন করছে, হয়তো সন্তানের লেখাপড়াই বন্ধ হয়ে গেছে, হয়তো দু’বেলা দু’মুঠো ভাত জোটাতে গিয়ে ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছে, হয়তো পাওনাদাররা তাদেরকে ঘাড় ধরে ঘর থেকে বের করে দিচ্ছে, না হয় সংসারের মালামাল জোর করে নিয়ে যাচ্ছে – এর কোন খবর কি আমাদের বিচারকেরা, আমাদের দেশের মন্ত্রীরা রাখে?
আমি আজ বসে বসে ভাবলাম, ১৮ কোটি মানুষের দেশে যেখানে সড়কে প্রতিদিন দুর্ঘটনা, নারী নির্যাতন, জালিয়াতি, খুন-রাহাজানির মামলার শেষ নেই, সেখানে আমাদের বিচার বিভাগ কেন এত ধীর? মাগুরার আসিয়া হত্যাকাণ্ডের কথা মনে আছে? যেই আসিয়ার মরদেহ উদ্ধারের পর সারা দেশ ক্ষোভে ফেটে পড়েছিল? যেই মামলার রায় দিয়েছিল মাত্র ১৪ কার্যদিবসে? সেই আসিয়া আজও বিচার পায়নি। কেন? কারণ হাইকোর্টে ডেথ রেফারেন্স আটকে আছে। আর সেই দীর্ঘসূত্রিতার জেরে এখন রামিসা—আরেক নিরপরাধ শিশু—সেও কি একই পরিণতির দিকে এগোচ্ছে?
আমি আইনজ্ঞ নই, সাধারণ মানুষ। তাই প্রথমে পরিষ্কার করে জেনে নিই, সুপ্রিম কোর্টের দুটি বিভাগ কী কাজ করে।
সুপ্রিম কোর্টের দুটি বিভাগ: সহজ ভাষায় বোঝার চেষ্টা করি। বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্ট দুটি ভাগে বিভক্ত:
হাইকোর্ট বিভাগ : নিম্ন আদালত (জেলা জজ কোর্ট, ট্রাইব্যুনাল) এর রায়ের বিরুদ্ধে প্রথম আপিল শুনানি করে। ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ডের পরোয়ানা নিশ্চিতকরণ) এখানেই প্রথমে আসে।
আসিয়া হত্যাকারী হিতু শেখকে নিম্ন আদালত মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। এখন সেই রায় বৈধ কিনা, যাচাই করবে হাইকোর্ট বিভাগ। তারা যদি বলে ‘বৈধ’, তবেই ফাঁসি কার্যকর হবে।
আপিল বিভাগ : হাইকোর্ট বিভাগের রায়ের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত আপিল এখানে হয়। এই বিভাগের রায়ের বিরুদ্ধে আর কোনো আপিল হয় না। এটাই শেষ কথা। যদি হাইকোর্ট কোনো রায় দেয়, কিন্তু কেউ যদি মনে করে ‘এটা ঠিক হয়নি’, তবে সে আপিল বিভাগে যায়। সেখান থেকে যে রায় আসে, সেটাই চূড়ান্ত।
একটি ছোট্ট টেবিল আকারে আরো সহজে বোঝা যেতে পারে –
| বিভাগ | কাজ | বর্তমান বেঞ্চ | প্রস্তাবিত বেঞ্চ | প্রয়োজনীয় বিচারক |
| হাইকোর্ট | নিম্ন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে প্রথম আপিল, ডেথ রেফারেন্স | ৬০-৬৫টি | ১০০টি (দ্বৈত) | ২০০ জন |
| আপিল বিভাগ | হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত আপিল | ২টি (মোট ৬ বিচারক) | ১৫টি (প্রতিটি ৩ জন) | ৪৫ জন |
মূল কথা, আসিয়া মামলার রায় কার্যকর করতে হলে প্রথমে হাইকোর্ট বিভাগকে ডেথ রেফারেন্স নিষ্পত্তি করতে হবে। তারপর চাইলে আসামি আপিল বিভাগে যেতে পারে। কিন্তু হাইকোর্ট বিভাগেই মামলাটি এক বছরের বেশি সময় ধরে আটকে আছে।
আমি কোনো আইনজ্ঞ নই, একজন সাধারণ মানুষ। কিন্তু একজন বিচারপ্রার্থী হিসেবে আমার অধিকার আছে প্রশ্ন তোলার। আজ আছিয়া, কাল রামিশা, পরশু যে আমার মেয়ের সাথে এমন হবে না- তা কি কোন নিশ্চয়তা আছে?
বাংলাদেশ প্রতিদিনের ২০২৬ সালের মে মাসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে – হাইকোর্টে প্রায় সাড়ে ৫ লক্ষ মামলা নিষ্পত্তির অপেক্ষায় জমা হয়ে আছে। সম্প্রতি এক সুশীল আলোচনায় (২০২৬ সালের মে মাসে) একজন প্রবীণ আইনজীবী বলেছেন, “হাইকোর্টে ডেথ রেফারেন্স নিষ্পত্তি হতে গড়ে ৩-৪ বছর লেগে যায়।” এর মানে, একজন মানুষ মৃত্যুদণ্ড পেলেও তা কার্যকর হতে বছর খানেক নয়, বরং তিন-চার বছর অপেক্ষা করতে হবে!
তাহলে সমাধান কী? আমি একজন সাধারণ মানুষের দৃষ্টিকোণ থেকে নিচে বাস্তবভিত্তিক কিছু প্রস্তাব দিচ্ছি। প্রস্তাবগুলো অনেকটাই সাহসী এবং আমূল সংস্কারমূলক, কিন্তু অসম্ভব নয়।
স্তরভিত্তিক সমাধান: তিনটি স্তম্ভে নতুন বিচার ব্যবস্থা
প্রথম স্তম্ভ: হাইকোর্ট বিভাগে বেঞ্চ সংখ্যা ব্যাপক বৃদ্ধি করতে হবে
বর্তমানে হাইকোর্ট বিভাগে নিয়মিত বেঞ্চের সংখ্যা অর্থাৎ, আদালতের সংখ্যা মাত্র ৬০-৬৫টি, যার মধ্যে ৩০-৩৫টি দ্বৈত বেঞ্চ অর্থাৎ ২ জন বিচারক ও বাকি ৩০-৩৫টি একক বেঞ্চ অর্থাৎ ১ জন বিচারক।
আমার প্রস্তাব হলো:
হাইকোর্টে কমপক্ষে ১০০টি বেঞ্চ গঠন করতে হবে। প্রতিটি বেঞ্চে দুইজন বিচারপতি থাকবেন (দ্বৈত বেঞ্চ), কারণ জটিল ফৌজদারি মামলা ও ডেথ রেফারেন্স একক বেঞ্চে নিষ্পত্তি করলে ভুল হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
এই ১০০ বেঞ্চের জন্য প্রয়োজন ২০০ জন বিচারপতি। বর্তমানে হাইকোর্টে বিচারপতি সংখ্যা প্রায় ১১০ জন। অর্থাৎ নতুন করে আরও ৯০ জন নিয়োগ দিতে হবে।
প্রশ্ন: এত বিচারপতি কোথায় পাব?
বাংলাদেশে প্রতিবছর আইন কলেজ থেকে হাজার হাজার স্নাতক বের হন। অধিকাংশই বেকার। হাইকোর্টের সিনিয়র আইনজীবীদের মধ্যে থেকে যোগ্য ব্যক্তিদের দ্রুত বিচারক নিয়োগের একটি স্বচ্ছ ব্যবস্থা চালু করতে হবে। সরকারের রাজনৈতিক ইচ্ছা থাকলে ১ বছরের মধ্যে সকল বিচারপতি নিয়োগ দেওয়া সম্ভব।
দ্বিতীয় স্তম্ভ: আপিল বিভাগে যুগান্তকারী সংস্কার
আপিল বিভাগ বর্তমানে ৬ জন বিচারপতি নিয়ে গঠিত, যার মধ্যে সর্বোচ্চ ২টি বেঞ্চ আ আদালত বসে। ফলে গুরুত্বপূর্ণ আপিল মামলার জন্য অপেক্ষা করতে হয় বছরের পর বছর।
আমার প্রস্তাব: আপিল বিভাগে ১০-১৫টি বেঞ্চ গঠন করতে হবে ।
প্রতিটি বেঞ্চে ন্যূনতম ৩ জন বিচারপতি থাকবেন (ট্রিবিউনাল গঠন)। এজন্য প্রয়োজন ৩০-৪৫ জন বিচারপতি। বর্তমানে আপিল বিভাগে ৬ জন সদস্য বা বিচারপতি আছেন। বাকি সদস্যদের হাইকোর্টের জ্যেষ্ঠ ও অভিজ্ঞ বিচারপতিদের থেকে পদোন্নতি দিয়ে নেওয়া যাবে।
এত বিপুল সংখ্যক বিচারপতি নিয়োগে কোনো অসুবিধা নেই। আমাদের দেশে জনবলের অভাব নেই, অভাব শুধু সঠিক পরিকল্পনার।
তৃতীয় স্তম্ভ: ছুটি কমানো ও অবকাঠামো দ্রুত নির্মাণ
বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টে সাপ্তাহিক ছুটি ২ দিন (শুক্র ও শনি), বার্ষিক ১৫-২০ দিন মৌসুমি ছুটি (গ্রীষ্ম ও শীত)। অথচ সুপ্রিম কোর্টের বারান্দায় প্রতিদিন শত শত মানুষ ফিরে যায় নিরাশ হয়ে।
আমার প্রস্তাব: সাপ্তাহিক ছুটি কমিয়ে ১ দিন (শুক্রবার) করা হোক।
শনিবার থেকে বৃহস্পতিবার, পূর্ণ কর্মদিবস চালু করতে হবে। উন্নত দেশের আদালতে শনিবারেও শুনানি হয়।
মৌসুমি ছুটি সম্পূর্ণ বাতিল করতে হবে। তবে ধর্মীয় ছুটি বলবোধ রাখতে হবে।
যতদিন পর্যন্ত দেশের জেলখানায় অন্তত একজন নিরপরাধ বন্দি থাকে, ততদিন কোনো
বিচারপতি গ্রীষ্ম কালিন/শীত কালিন ছুটিতে থাকতে পারবে না।
ভৌত অবকাঠামো নির্মাণ: সুপ্রিম কোর্টের বর্তমান ভবন ছাড়াও নতুন ১০-২০ তলা ভবন নির্মাণ করতে হবে। বাংলাদেশে ২ বছরের মধ্যে ৪০ তলা ভবন তৈরি হওয়ার নজির আছে (ঢাকা মেডিকেলের ৪০ তলা ভবন)। কাজেই ১০০ বেঞ্চের জন্য পর্যাপ্ত কক্ষ তৈরি করতে সর্বোচ্চ ২-৩ বছর লাগবে।
সমাধান বাস্তবায়নে কিছু চ্যালেঞ্জ ও তার উত্তরণ
যোগ্য বিচারক স্বল্পতা : হাইকোর্টের সিনিয়র আইনজীবীদের দ্রুত নিয়োগের জন্য ‘জুডিশিয়াল অ্যাপয়েন্টমেন্ট কমিশন’ সংস্কার করা যেতে পারে। ১ বছরের মধ্যে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
বিচারকদের আপত্তি : সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন ও সাধারণ মানুষের চাপে বিচারকরা রাজি হবেন। গণমাধ্যমে ব্যাপক প্রচারণা চালাতে হবে।
বাজেট নির্ধারণ : সরকারি বাজেট ১০০ বেঞ্চের জন্য ভবন ও জনবল বাবদ এককালীন প্রায় ২০০০ কোটি টাকা লাগতে পারে। এটি জাতীয় বাজেটের একটি ক্ষুদ্র অংশ (বর্তমানে প্রতিরক্ষা বাজেট ৪০,০০০ কোটি টাকা)। ন্যায়বিচার কি প্রতিরক্ষার চেয়ে কম গুরুত্বপূর্ণ? যুগ যুগ ধরে বিচার বঞ্চিত মানুষকে বিচার পাইয়ে দেওয়া কি প্রতিরক্ষার থেকে কম গুরুত্বপূর্ণ?
একটা দেশ মানুষ একটা দেশের মানুষের মূল চাহিদা কি? অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা এবং ন্যায় বিচার।
যে দেশে ন্যায় বিচার নাই, সেই দেশ জাহান্নাম তুল্য। আর যে দেশে ন্যায় বিচার আছে, সেই দেশের মানুষ তাদের দেশকে নিয়ে গর্ব করে।
সংবিধান সংশোধন: আপিল বিভাগের গঠন ও এখতিয়ার সংবিধানের ৯৪-১০৬ অনুচ্ছেদে আছে। প্রয়োজন হলে অস্থায়ী আইন বা সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদ ব্যবহার করে পরিবর্তন আনা সম্ভব।
কেন এই সংস্কার এখনই জরুরি?
১. আসিয়া হত্যাকাণ্ডের মামলার মতো অনেক ডেথ রেফারেন্স আটকে আছে হাইকোর্টের সিরিয়ালে। মাগুরার ট্রাইব্যুনাল মাত্র ১৪ দিনে রায় দিলেও হাইকোর্টে সেই মামলা এখনো শুনানির জন্য ওঠেনি। সারা দেশ বিক্ষোভ করলেও হিটু শেখের ফাঁসি হয়নি।
২. জেলখানায় নিরপরাধ বন্দির সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। বাংলাদেশ জেল পরিদর্শন কমিটির ২০২৫ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের জেলখানায় মোট বন্দির ৪২%ই বিচারাধীন– যাদের সাজা হয়নি, শুধু বিচার পেতে অপেক্ষা করছে।
৩. মানুষ বিচার পেতে বিচারকের দয়ার ওপর নির্ভরশীল নয়, অধিকার হিসেবে চায়। বিচার বিলম্বিত হলে রাষ্ট্রের ওপর আস্থা কমে। ন্যায়বিচারের দাবিতে সড়কে নামা মানুষ থামছে না। সেটা যদি সংস্কার না করি, তবে রাস্তার বিচার বেড়ে যাবে, যা আইনের শাসনের জন্য হুমকি।
উপসংহার: এখন সময় পদক্ষেপ নেওয়ার
আমরা যদি ২০২২ সালে পদ্মা সেতু নির্মাণে ৩০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করতে পারি, তাহলে কেন বিচার বিভাগ সংস্কারে ২০০০ কোটি টাকা ব্যয় করতে পারব না?
কেন বিচারকদের মৌসুমি ছুটি বাতিল করতে পারব না?
বিচার বিভাগের কর্মচারী, বিচারক ও প্রশাসন—সবাইকে একটি সত্য বুঝতে হবে: – বিচার বিভাগ সৃষ্টি করা হয়েছে মানুষকে ন্যায়-বিচার পাইয়ে দেবার জন্য। বিচারপ্রার্থীর অধিকারই সর্বোচ্চ। মানুষ যদি ন্যায় বিচার না পায়, তাহলে এই বিচার বিভাগ রাখার তো কোন প্রয়োজন নাই। তাই সংস্কারই একমাত্র পথ। বিচার বিভাগ বিলুপ্ত নয়, বরং তাকে শক্তিশালী ও দ্রুততর করতে হবে।
বিচারকের সুস্থতা, ভবনের অভাব, পুরনো আইন—এসব অজুহাত নয়, বাধা। বাধা অতিক্রম করার মতো শক্তি ও সামর্থ আমাদের আছে।
আমি সরকারের প্রতি আহ্বান জানাব, আইন মন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি যেন বসে একটি ‘ন্যায়বিচার দ্রুতীকরণ টাস্কফোর্স’ গঠন করেন। ওই টাস্কফোর্স যেন আগামী ১ মাসের মধ্যে হাইকোর্টে ১০০ বেঞ্চ ও আপিল বিভাগে ১৫ বেঞ্চ চালু করার রোডম্যাপ দেয়।
সংক্ষেপে আমাদের দাবি:
- হাইকোর্টে ১০০টি দ্বৈত বেঞ্চ (প্রয়োজন ২০০ বিচারপতি)
- আপিল বিভাগে ১৫টি বেঞ্চ (প্রতি বেঞ্চে ৩ বিচারপতি)
- সাপ্তাহিক ছুটি ১ দিন (শুক্রবার), মৌসুমি ছুটি বাতিল
- প্রয়োজনীয় ভবন নির্মাণে ২ বছর
- জুডিশিয়াল অ্যাপয়েন্টমেন্ট কমিশন সংস্কার করে ১ বছরে বিচারক নিয়োগ
- ‘ন্যায়বিচার দ্রুতীকরণ টাস্কফোর্স’ গঠন করে ১ মাসের মধ্যে রোডম্যাপ প্রণয়ন
যেদিন সেই বর্ধিত বেঞ্চ বা আদালত থেকে একজন নিরপরাধ বন্দি দ্রুত বিচার পেয়ে জেল থেকে বের হবেন, সেদিন নিশ্চয়ই তার চোখেও পানি থাকবে—কিন্তু সেটা হবে আনন্দের, বেদনার নয়। আর মুখে থাকবে দোয়া সেই সব লোকদের জন্য, যারা তার মুক্তির জন্য দ্রুত বিচারের বন্দোবস্ত করে দিয়েছে। আর সেই আগামীটাই আমরা দেখতে চাই।
কাজী নজরুল ইসলাম একটা কথা বলেছিলেন। কথাটা এখনো আমার কানে বাজে।
– ‘‘বন্ধু গো, বলিতে পারি না, বড় বিষ জ্বালা এই বুকে;
দেখিয়া শুনিয়া ক্ষেপিয়েছি গিয়াছি, তাই যাহা আসে কই মুখে।
রক্ত ঝরাতে পারিনা তো একা, তাই লিখে যাই রক্তে লেখা ”
আশা করি এই অধমকে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন, ধন্যবাদ।